রায়/রিঅ্যাকশন:
“রেজিনগরের ভোটকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে যে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে, তা কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার বিষয় নয়। বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি নিয়েও পক্ষপাতিত্বের প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি BJP-র সঙ্গে পুলিশ ও প্রশাসনের যোগসাজশের অভিযোগও সামনে এসেছে। যদি সত্যিই কোনো ভোটারকে ভয় দেখিয়ে, চাপ সৃষ্টি করে বা বাধা দিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
পুলিশ ও BSF-এর দায়িত্ব কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করা নয়—তাদের দায়িত্ব প্রত্যেক সাধারণ ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা। একইভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী বা সমর্থক যদি ভোটারদের বাধা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হন, সেই অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া দরকার। সাধারণ মানুষের ভোট কোনো দলের সম্পত্তি নয়; প্রত্যেক নাগরিকের ভোট তার নিজের অধিকার।
তাই রেজিনগরের ঘটনায় কে কোথায় কী ভূমিকা নিয়েছে, কার নির্দেশে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং কোনো ভোটার সত্যিই বাধার মুখে পড়েছেন কি না—তার স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা না দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষের ভোট নিয়ে কোনো ধরনের কারচুপি, ভয় দেখানো বা বাধা দেওয়ার অভিযোগ যেন আর না ওঠে—এটাই একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক নির্বাচনের সবচেয়ে বড় দাবি।

